বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সম্মানিত অভিভাবক বৃন্দ ও শিক্ষার্থীবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
শিক্ষা মানুষের জীবনের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়। একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু সমাজের অনেক এতিম, অসহায় ও দুঃস্থ শিশু আর্থিক ও পারিবারিক প্রতিকূলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় থেকেই ২০০২ সালে বাংলাদেশ অরফ্যান্স সেন্টার স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করি।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল এতিম, অসহায় ও দুঃস্থ শিশুদের জন্য শিক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশের সুযোগ সৃষ্টি করা। বর্তমানে আমাদের প্রতিষ্ঠানটি শুধু এতিম বা অসহায় শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার শিক্ষার্থীরা এখানে অধ্যয়নের সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলে একটি সুন্দর, মানবিক ও বৈচিত্র্যময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আমাদের প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা বেতনে পড়ালেখার সুযোগ রয়েছে। আবাসিক ও অনাবাসিক—উভয় ব্যবস্থায় এতিম শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ প্রদান করা হয়। তাদের শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আবাসন, খাদ্য, পোশাক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা তাদের একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।
আমি বিশ্বাস করি, একটি শিশুর পারিবারিক বা আর্থিক অবস্থান কখনোই তার মেধা ও সম্ভাবনার মাপকাঠি হতে পারে না। যথাযথ শিক্ষা, ভালোবাসা, পরিচর্যা ও সুযোগ পেলে প্রতিটি শিশুই সমাজ ও দেশের জন্য মূল্যবান সম্পদে পরিণত হতে পারে। তাই আমাদের প্রত্যাশা—আমাদের শিক্ষার্থীরা জ্ঞান ও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি দেশ ও মানবতার কল্যাণে অবদান রাখবে।
বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব, বিজ্ঞান ল্যাব ও লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন শিক্ষাসুবিধা রয়েছে। আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা পাঠ্যজ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক, প্রযুক্তিবান্ধব, সৃজনশীল, মানবিক ও আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক।
২০০২ সালে যে স্বপ্ন নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ অনেক শিক্ষার্থীর জীবনে শিক্ষার আলো ছড়ানোর মাধ্যমে এগিয়ে চলেছে। ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠান আরও বৃহৎ পরিসরে এতিম, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।
“সুশিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। একটি সুশিক্ষিত ও সচেতন জাতিই পারে দেশ ও সমাজকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যেতে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমাদের এলাকার এতিম, অসহায়, হতদরিদ্র ও সকল শ্রেণীর শিক্ষাবঞ্চিত ও কোমলমতি শিশুদের মাঝে আলোর প্রদীপ জ্বালানোর প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আমাদের এই বাংলাদেশ অরফ্যান্স সেন্টার। শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল কেবল পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলা। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে বলীয়ান করে একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। আজ আমাদের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখছে, যা আমাকে গভীরভাবে আনন্দিত করে।আমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক শিক্ষিকামণ্ডলী, পরিচালনা পর্ষদ এবং অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি—যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠানটি আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছে। আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেইসব গুণীজনদের, যাঁরা এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠায় আমাকে নানাভাবে সাহায্য ও অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন। আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের এই প্রিয় প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই। আজ অত্যন্ত আনন্দের সাথে দেখতে পাচ্ছি যে, আমাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে। অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের নিষ্ঠা, শিক্ষার্থীদের অদম্য কৌতূহল এবং অভিভাবকগণের আন্তরিক সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি আজ একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠ হিসেবে রূপ নিয়েছে।আমি আশা করি, আমাদের শিক্ষার্থীরা আধুনিক বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে আগামীদিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে এবং দেশ ও দশের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করবে।এই মহৎ পথচলায় আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা ও আন্তরিকতা একান্তভাবে কামনা করছি।
সকলের জন্য শুভকামনা।”মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন । আমিন|
মা-আসসালাম,
মোহাম্মদ নুর (আমেরিকা প্রবাসী)
প্রতিষ্ঠাতা
বাংলাদেশ অরফ্যান্স সেন্টার স্কুল
প্রতিষ্ঠিত: ২০০২
